আব্দুল্লাহ আল মারুফ, চট্টগ্রাম।দীর্ঘ ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে দেশের অজপাড়াগাঁয়ে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করে যাচ্ছেন ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষক। এই বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে প্রায় ৮ লক্ষাধিক শিশু শিক্ষাগ্রহণ করছে। সরকারের সুযোগ-সুবিধা ও উপবৃত্তি-মিড ডে মিলের অভাবে বিদ্যালয়গুলো আজ বিলুপ্তির পথে, আর মানবেতর জীবনযাপন করছেন শিক্ষকসমাজ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সাদ্দাম হোসেন রুহান মন্ডল এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়ে অবিলম্বে এসব বিদ্যালয় ও শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের জোর দাবি জানান।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষক অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রিধারী। কিন্তু দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে বিনা বেতনে চাকরি করতে গিয়ে অনেক শিক্ষক বিনা চিকিৎসায় ও অনাহারে মৃত্যুবরণ করেছেন, অনেকেই শূন্য হাতে অবসরে গেছেন। বাকি শিক্ষকদেরও বয়স প্রায় শেষের পথে। শিক্ষকতা পেশা ছাড়া এই শিক্ষকদের অন্য কোনো আয়ের উৎস বা কর্মসংস্থান নেই। সরকারি বা বেসরকারি অন্য কোনো সংস্থায় চাকরির বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়ায় তাঁরা আজ চরম সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পতিত হয়েছেন।
জানা যায়, এই ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৩৪টি বিদ্যালয় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত। ফলে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিদ্যালয়গুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় টানা ৩১ দিন আন্দোলন ও পুলিশের লাঠিচার্জ-জলকামানের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষকরা অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে যান। ফলশ্রুতিতে, গত ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এই ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণের চিঠি ইস্যু করা হয়।
তৎকালীন সময়ে বিদ্যালয়গুলো যাচাই-বাছাই করার জন্য ১১টি জেলা ও ১১টি উপজেলায় কনসালটেশন কমিটি গঠিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, সচিব ও উপসচিবসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাতে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, যেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সুপারিশপ্রাপ্ত অন্যান্য শিক্ষকদের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সেখানে এই ২০ হাজার শিক্ষক আজও বঞ্চনার শিকার হয়ে আছেন।
আন্দোলন চলাকালীন সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালামসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ শিক্ষকদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে ঘোষণা দিয়েছিলেন—জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করলে শিক্ষকদের এই দাবি সবার আগে বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমানে দেশে সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এমতাবস্থায় শিক্ষক সমাজের একমাত্র চাওয়া, অবিলম্বে এই অবহেলিত শিক্ষক ও বিদ্যালয়গুলোর ভাগ্য পরিবর্তন করা হোক।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি জেলায় ৭৯টি করে বাদ পড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই জাতীয়করণের আওতায় আসবে।
বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সাদ্দাম হোসেন রুহান মন্ডল বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত ৫৩৪টি বিদ্যালয়সহ দেশের ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০ হাজার শিক্ষককে সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচার সুযোগ করে দিন। শিক্ষকতা একটি মহান পেশা; আজ এই মানুষ গড়ার কারিগরদের পেটে দু’মুঠো ডাল-ভাত নিশ্চিত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্যারের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও কার্যকর সিদ্ধান্ত কামনা করছি।


মন্তব্য